আজ ৬ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৪ ইং

উপকূলে ঘূর্ণিঝড় মোখার অগ্রভাগের প্রভাব শুরু

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার অগ্রভাগের প্রভাব উপকূলীয় এলাকায় শুরু হয়েছে।

শনিবার (১৩ মে) দিবাগত রাত দুইটার পর আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া ১৭ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মোখা উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর ও আরও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ১৩ মে মধ্যরাতে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

এটি আরও উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে রোববার (১৪ মে) সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে কক্সবাজার-উত্তর মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, মধ্যরাতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে হালকা বাতাস ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেছেন, রাত ৩টা থেকে সেন্ট মার্টিনে আবহাওয়া কিছুটা খারাপ হতে শুরু করেছে। হালকা হালকা বাতাস ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সাগরেও জোয়ার আসা শুরু করেছে।

মধ্যরাতে বৃষ্টি বেড়েছে কক্সবাজার শহরেও। সেখান থেকে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক সুজন ঘোষ জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও রাত পৌনে দুইটার দিকে মাত্রা বাড়তে থাকে। থেমে থেমে এর পরিমাণ বাড়ছিল। মাঝে কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পর রাত সাড়ে ৩টায় আবার বেশ বৃষ্টি শুরু হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় মোখা’র কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ২১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুদ্ধ রয়েছে।

কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ০৮-১২ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস। তবে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ সুপার সাইক্লোনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ